বৈশ্বিক চিনির বাজারে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে প্রায় ২৬ লাখ টনের উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে রাবোব্যাংক। ভারতের উৎপাদন পুনরুদ্ধার এ উদ্বৃত্তের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর ইউকেআর এগ্রো কনসাল্ট।
রাবোব্যাংকের এগ্রি কমোডিটিজ মার্কেটস রিসার্চ (এসিএমআর) দলের বিশ্লেষক চার্লস হার্ট রাবোরিসার্চ পডকাস্টে বলেন, ‘আগের মৌসুমে ফলন কমে যাওয়ার পর ২০২৫ সালে ভারতের চিনি উৎপাদন ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টানা দুই মৌসুম অতিবৃষ্টির পর এবারের আবহাওয়া ফসলের জন্য সহায়ক হয়েছে।’
তিনি জানান, ভারত সরকার ১৫ লাখ টন চিনি রফতানির কোটা নির্ধারণ করেছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
রাবোব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে চিনির দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফান্ডগুলোর বড় আকারের শর্ট পজিশন (ভবিষ্যতে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনায় আগেই বিক্রি করে দেয়া)। কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) প্রতিবেদন পুনরায় প্রকাশ শুরু হওয়ার পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
এছাড়া চীনসহ অন্য দেশগুলো ভারত থেকে চিনি আমদানি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের আবহাওয়া পরিস্থিতিও ভবিষ্যতে চিনির দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাবোব্যাংক আরো জানায়, বিশ্ববাজারে চিনির উদ্বৃত্ত খুব বেশি নেই। ফলে আবহাওয়া, উৎপাদন ভারসাম্য ও প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতিতে সামান্য পরিবর্তন হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চিনির দামে বড় ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেশ কয়েকদিন ধরেই নিম্নমুখী ধারা বজায় রেখেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত সরবরাহের পূর্বাভাসে পণ্যটির দামের ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) চিনির দাম কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতি পাউন্ডের মূল্য নেমে এসেছে ১৪ ডলার ৯০ সেন্টে।